সালানপুর থানায় এখন কার্যত ওসি নেই। কয়েক দিন আগেই ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের বদলির নির্দেশ এসেছিল। তিনি অন্যত্র দায়িত্ব নিয়ে চলে গেছেন। নতুন কেউ এখনও ওসি পদে যোগ দেননি। অথচ থানার মাথা অর্থাৎ ওসি না থাকলেও ‘মাথার’ গাড়ি কিন্তু ঘুরছে —নীল বাতি জ্বালিয়ে! আর সেই গাড়ির স্টিয়ারিংয়ের ড্রাইভারের পাশে দেখা যাচ্ছে থানার মেজোবাবু, সাব-ইন্সপেক্টর ধ্রুবজ্যোতি দত্তকে।
সরকারি নিয়ম স্পষ্ট। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গাইডলাইন অনুযায়ী নীল বা লাল বাতি ব্যবহার করতে পারেন শুধুমাত্র নির্দিষ্ট পদমর্যাদার আধিকারিকেরা।
রাজ্যে সাধারণত পুলিশ সুপার, ডিআইজি, আইজি, কমিশনারেটের ডিসি বা সমমর্যাদার অফিসার, কিংবা থানার ইন্সপেক্টর র্যাঙ্কের অফিসাররা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সেই সুবিধা পান। আর সাব-ইন্সপেক্টর? তিনি তদন্তকারী অফিসার, মাঠপর্যায়ের দায়িত্বে থাকা কর্মী—কিন্তু নীল বাতি লাগানো ‘ওসি’র গাড়ি তাঁর ব্যক্তিগত দখলে নেওয়ার অধিকার আছে কি?
সালানপুরে এখন সেটাই দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ, থানায় ওসি না থাকায় সেই নীল বাতি লাগানো অফিসিয়াল গাড়ি নিয়ে এলাকায় টহল দিচ্ছেন সাব-ইন্সপেক্টর ধ্রুবজ্যোতি দত্ত। সাধারণ মানুষের কৌতূহল ক্রমে ক্ষোভে পরিণত হচ্ছে। থানার শীর্ষ পদ ফাঁকা, অথচ প্রতীকী ক্ষমতার প্রদর্শন অটুট! প্রশ্ন উঠছে—এ কি শুধুই অজ্ঞতা? না কি ইচ্ছে করেই ক্ষমতার প্রতীক নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া?
আইন বলছে, ভিভিআইপি বা জরুরি পরিষেবার গাড়িতে নির্দিষ্ট শ্রেণির অফিসাররাই ফ্ল্যাশিং লাইট ব্যবহার করতে পারেন। ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর দেশ জুড়ে লালবাতির অপব্যবহার বন্ধ হয়। পরে নীল বাতিও সীমিত ব্যবহারের আওতায় আসে। উদ্দেশ্য একটাই—ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করা। তাহলে সালানপুরে এই ব্যতিক্রম কেন?










