টি২০ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রথম ঐতিহাসিক ম্যাচের আগে আজ ইডেন গার্ডেন্সে ৩২ জন শিশুর সঙ্গে বিশেষ অনুশীলনে নামল ইতালি ক্রিকেট দল।
কলকাতার বিভিন্ন স্কুলের ছেলে ও মেয়েরা এদিন ইতালির ক্রিকেটারদের সঙ্গে বল-ব্যাট করে, তাদের কাছ থেকে টিপস নেয়। ক্রিকেটাররা ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে হাত মেলান, টি-শার্টে অটোগ্রাফ দেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাররা শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং তাদের উৎসাহিত করেন।
শনিবার বিকেলে শহরে পৌঁছনোর পরই ইতালির ক্রিকেটাররা নেটে অনুশীলনের আগে ইডেন গার্ডেন্সে এসে শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলায় অংশ নেন। দলের কোচ মহসিন শেখের তত্ত্বাবধানে ব্যাটার ও বোলাররা শিশুদের সঙ্গে খেলেন এবং নবীন ক্রিকেটারদের উৎসাহ দেন।
আইসিসি-ইউনিসেফের ‘ক্রিকেট ফর গুড’ উদ্যোগে সময় দেওয়ার জন্য ইতালি দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইউনিসেফ পশ্চিমবঙ্গের প্রধান ড. মনজুর হোসেন বলেন, শিশুদের ‘খেলার অধিকার’ এবং স্কুল ও পাড়ায় নিরাপদ খেলার পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “আত্মবিশ্বাস, আনন্দ ও নিরাপত্তার সঙ্গে খেলতে পারার মতো জায়গা থাকা জরুরি। আইসিসির সঙ্গে মিলেই ইউনিসেফ ক্রিকেট ক্লিনিকের মাধ্যমে শিশুদের এই অধিকার প্রচার করছে।”
শিশুদের সঙ্গে অনুশীলন নিয়ে ইতালির উইকেটকিপার-ব্যাটার জিয়ান-পিয়েরো মিড বলেন, “আমরা বাচ্চাদের কোচিং দিয়েছি, তারাও নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছে, খুব মজা হয়েছে। তাদের মুখের হাসি দেখে খুব ভালো লাগছিল। উচ্ছ্বাসটা চোখে পড়ার মতো ছিল।” তিনি জানান, কয়েকজন শিশু খুব টেকনিক্যালি ভালো খেলেছে এবং উইকেটকিপিং করার সময় তিনি বেশ কয়েকজন ভালো ফাস্ট বোলারও দেখেছেন।
শেষে ইতালির অধিনায়ক ওয়েন ম্যাডসেনের ভক্ত কিছু ছাত্র ক্রিকেটারদের জিজ্ঞাসা করে, দর্শকদের উল্লাসে তাদের কেমন লাগে। ক্রিকেটাররা জানান, এমন সময় তাঁরা খেলায় মনোযোগী থাকেন এবং মাঠে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
উদীয়মান অলরাউন্ডার হীরামন বৈরাগী বলে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সঙ্গে দেখা করা তাঁর কাছে স্বপ্নপূরণের মতো। তার কথায়, “ওদের দেওয়া টিপস ভবিষ্যতের ম্যাচে কাজে লাগবে। এই অভিজ্ঞতা আমাকে ভীষণ অনুপ্রাণিত করেছে”।
ইতালি দলের কোচ মহসিন শেখ বলেন, “মেয়েদের ক্রিকেট খেলতে এগিয়ে আসতে দেখা খুব উৎসাহজনক। এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ওরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলার এবং তাদের সঙ্গে ব্যাট-বল করার সুযোগ পেল।”










