অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: আশা বদলে গেল হতাশায়। কেন্দ্রীয় বাজেটে কোনও শব্দ খরচ করা হল না উত্তরের চা শিল্প নিয়ে। একাধিক আশ্বাসের সঠিক প্রতিফলন না মেলায় মর্মাহত চা মহল। তবে, তাদের আশা, পরপ হয়তো কেন্দ্র আলাদাভাবে কিছু বরাদ্দ করতে পারে কেন্দ্র।
রবিবার লোকসভায় পেশ হল কেন্দ্রীয় বাজেট। এই বাজেটে কাজু ও নারকেল চাষি ও পশুপালনকারীদের জন্য বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা করা হলেও ব্রাত্যই রয়ে গেল উত্তরবঙ্গের চা শিল্প। কথায় আছে, উত্তরের অর্থনীতি চা, কাঠ আর তামাকের ওপর নির্ভরশীল। কাঠের ক্ষেত্র বর্তমানে অনেকটাই সংকুচিত পরিবেশগত কারণে। এ দিকে, বিগত কয়েক বছর ধরেই চা শিল্প নানা সমস্যার সম্মুখীন। দেশের মোট চা উৎপাদনের কমবেশি ৫৫-৬০ শতাংশ আসে ক্ষুদ্র চা বাগান থেকে। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলার কয়েক লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে ক্ষুদ্র চা চাষের সঙ্গে যুক্ত।
সম্প্রতি, বাজেট পেশের বেশ কিছু আগে ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির তরফে এক ‘মেমোরেন্ডাম’ পাঠান হয় কেন্দ্রীয় অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রকের কাছে। কৃষিজীবীর স্বীকৃতি দাবি করেন ক্ষুদ্র চা চাষিরা। বাজেটে এই তকমা দেওয়া হয়নি তাদের। এই স্বীকৃতি পেলে অন্য কৃষিজীবিদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর যে ১৮টি প্রকল্প রয়েছে, তার সুবিধা পেতেন ক্ষুদ্র চা চাষিরা। এমনকি বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং চা’য়ের জন্যও কোনও বরাদ্দ নেই বাজেটে।
ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সম্পাদক বিজয় গোপাল চক্রবর্তী বলেন, “অনেক কিছু পাওয়ার আশা করেছিলাম। এই বাজেট আমাদের হতাশ করেছে। তবে, আশা রাখছি, পরে কোনও প্যাকেজ পাবো।” তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক সংগঠনের চেয়ারম্যান নকুল সোনার বলেন, “ফের প্রমাণিত হল বিজেপি ও কেন্দ্র চা শ্রমিকদের উন্নয়নের কথা ভাবে না।”
আইটিপিএ-র আহ্বায়ক অমৃতাংশু চক্রবর্তী বলেন, “চা শিল্পের জন্য আলাদা কোনও বরাদ্দ না থাকায় আমরা হতাশ।”










