অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: ট্রেন চলাচলে শহরের একাধিক লেবেল ক্রসিংয়ে যানজটের শিকার জলপাইগুড়ি শহরের বাসিন্দারা। শহরের ১, ৩ ও ৪ নম্বর লেভেল ক্রসিংয়ে রেলগেট বন্ধ থাকায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় শহরবাসীকে। সমস্যা মেটাতে লেবেল ক্রসিংয়ে রেল ওভারব্রিজ নির্মাণ-সহ একাধিক দাবি জলপাইগুড়ি নাগরিক সংসদের। রবিবার সকালে জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশন ম্যানেজারের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারকে দাবিপত্র পাঠালেন সংগঠনের সদস্যরা।
শহরের এক নম্বর ঘুমটি তথা লেবেল ক্রসিংয়ের পূর্ব অংশের পাকা সড়কের দু’পাশে প্লাটফর্ম করা হয়েছে যাত্রীদের সুবিধার জন্য। এর ফলে ট্রেন আসার আগে-পরে ও স্টপেজের সময়ে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকতে হয় আদরপাড়া, জয়ন্তীপাড়া গামী মানুষজনকে। এ দিকে ৩ নম্বর লেবেল ক্রসিংয়েও যানজটের কারণে হয়রানির শিকার হচ্ছেন শহর থেকে হলদিবাড়ি, মণ্ডলঘাট, কাদোবাড়ি, ঘুঘুডাঙা-সহ একাধিক গন্তব্যের যাত্রীরা। ওই লেবেল ক্রসিং পেরিয়েই শহরের একাংশের মানুষ মহামায়া পাড়া, কংগ্রেস পাড়া, পাণ্ডাপাড়া-সহ একাধিক জায়গায় যাতায়াত করেন। দীর্ঘসময় আটকে থাকায় বিপাকে পড়েন সবাই।
৪ নম্বর লেবেল ক্রসিংয়েও একই চিত্র। জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশন ও হলদিবাড়ি হয়ে ওই রেলপথেই একসময় বাংলাদেশ যেত মৈত্রী এক্সপ্রেস। বর্তমানে বাংলাদেশে আভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও আন্তর্জাতিক ওই রেলপথের যথেষ্ট গুরুত্বও রয়েছে। সুপারফাস্ট, দার্জিলিং মেল বর্তমানে হলদিবাড়ি থেকে জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশন হয়েই কলকাতার পথে ছোটে। এছাড়া চলে লোকাল ট্রেনও। ফলে ট্রেন চলাচলের সময়ে স্কুল পড়ুয়া, অফিসকর্মী থেকে সবাই আটকে পড়েন লেবেল ক্রসিংয়ে। এ দিকে জলপাইগুড়ি রোড স্টেশন হয়ে অসমে যায় একাধিক ট্রেন ও মালগাড়ি।
রোড স্টেশন লাগোয়া ডেঙ্গুয়াঝাড় লেবেল ক্রসিংয়েও একই চিত্র। সামান্য সময়ের ব্যবধানে একাধিক ট্রেন ওই পথে চলাচল করায় ফি দিন একলপ্তে অনেকটা সময় বন্ধ থাকে রেলগেট। ফলে, চরম ভোগান্তিতে পড়েন শহরে যাতায়াতকারী মানুষজন। এই সমস্যা মেটাতে এবারে আন্দোলনে নামলো জলপাইগুড়ি নাগরিক সংসদ।
এ দিন সংগঠনের সভাপতি তথা চিকিৎসক পান্থ দাশগুপ্ত, সম্পাদক ভার্গবী হোম রায়, যুগ্ম সম্পাদক গণেশ ঘোষ-সহ অন্য সদস্যরা টাউন স্টেশনে যান। প্রথমে স্টেশন বাজারের সামনে নিজেদের দাবিগুলো তুলে ধরেন বক্তারা। পরে, স্টেশন ম্যানেজার নিতাই দাসের সঙ্গে কথাবার্তাও বলেন তারা। দাবি গুলি স্টেশন ম্যানেজারের মাধ্যমে ডিআরএমকে পাঠান হবে।
সংগঠনের সভাপতি পান্থ দাশগুপ্ত বলেন, “আমরা টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও কথা বলেছি। কয়েকটি জায়গায় রেলওয়ে ওভারব্রিজ হলে শহরবাসী ও শহরে নানা কাজে আসা মানুষজনের ভোগান্তি বন্ধ হবে।” টাউন স্টেশন ম্যানেজার নিতাই দাস বলেন, “দাবিপত্র উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে পাঠাচ্ছি।”










