মুকুট তপাদার
ষোড়শ শতকের ধর্মীয় সংস্কৃতি বাংলায় ভক্তি আন্দোলনের জোয়ার এনেছিল। বাঙালি জাতিকে বিশিষ্ট স্তরে উন্নীত করে।
গঙ্গার পশ্চিম পাড়ে হুগলীতে শ্রীরামপুরের অন্তর্গত মাহেশ অঞ্চলে নদীর তীরে বাস করতেন সাধক ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী। নীলাচলে প্রভু জগন্নাথদেবের নির্দেশ পেয়ে নদীতে ভেসে আসা কাঠ দিয়ে মূর্তি নির্মাণ করে এক ছোট্ট কুটিরে পুজো শুরু করেন। সেই পুজোর ভার তিনি শ্রী কমলাকার পিপ্পালাই এর হাতে অর্পণ করেছিলেন।
কমলাকার ছিলেন দ্বাদশ গোপালের একজন। শ্রীচৈতন্যদেব ও নিত্যানন্দের এক প্রিয় পার্ষদ। শ্রীচৈতন্যদেব মাহেশকে নবনীলাচল বলতেন। বাংলার প্রাচীন রথযাত্রা এখানেই পালন হয়।
পুরীর পরেই মাহেশ। প্রথম মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয় ১৩৯৬ খ্রিষ্টাব্দে। জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা ও নীলমাধব এখানে পূজিত হন। আধুনিক মন্দিরটি নির্মাণ করেন ১৭৫৫ সালে কলকাতার পাথুরিয়াঘাটা অঞ্চলের নয়নচাঁদ মল্লিক।
৬৩০ বছরের প্রাচীন জগন্নাথ মহাপ্রভুর প্রতিষ্ঠাতা ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী ও কমলাকার পিপ্পালাই দুই সাধকের প্রস্তর মূর্তি বসছে মন্দির প্রাঙ্গণে।
৩১ জানুয়ারি সেই উপলক্ষে আয়োজিত হবে শোভাযাত্রা, গঙ্গা পুজো, গঙ্গা আরতি, কলসযাত্রা ও ধর্মসভা। মন্দিরে হরিনাম সংকীর্তন করা হবে। অগণিত ভক্ত সামিল হবেন।
১লা ফেব্রুয়ারী রবিবার প্রস্তর মূর্তি প্রতিষ্ঠা হবে। আরতির পর জগন্নাথকে ৫৬ ভোগ ও ৬৪ মহন্তের ভোগ নিবেদন করা হবে। মিলন উৎসবে সেজে উঠছে মাহেশ।










