আসানসোলের সমাজসেবী ও বিজেপি নেতা কৃষ্ণ প্রসাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। যা নিয়ে আসানসোল শহর তথা শিল্পাঞ্চল জুড়ে রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
আসানসোলে ১৯ নং জাতীয় সড়কের শীতলায় বিজেপি জেলা কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে কৃষ্ণা প্রসাদ গোটা বিষয়টি প্রকাশ্য তুলে ধরেন।
এদিন কৃষ্ণা প্রসাদ বলেন, ঠান্ডার কারণে আমি বেশ কিছুদিন ধরে আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন ওয়ার্ডে কম্বল বিতরণ করে আসছি। সেই রকম ভাবে গত ১৯ জানুয়ারি আসানসোল পুরনিগমের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের শালডাঙ্গা এলাকায় কম্বল বিতরণের জন্য যাই। সেখানে সাঁওতাল, বাউরি সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষজনেরা থাকেন।
তিনি বলেন যে, স্থানীয় বাসিন্দারা কোনও সমস্যা ছাড়াই কম্বল পাচ্ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, সেই সময় মনোজিত হেমব্রম নামে একজন তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক এসে ‘গো ব্যাক কৃষ্ণা প্রসাদ” বলে চিৎকার করতে শুরু করেন। সে আমার সামাজিক কাজের বিরোধিতা করেন। তখন আমি তাকে স্পষ্ট করে বলি, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে কোনও রাজনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত হতে আসিনি। বরং এটা ছিল সম্পূর্ণরূপে একটি সমাজসেবামূলক কর্মসূচি।
এদিন তিনি বলেন, তা সত্ত্বেও, আমার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের হওয়ার পরে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছ যে, তৃণমূল কংগ্রেস এবং আসানসোল উত্তরের বিধায়ক মলয় ঘটক বিচলিত হয়ে পড়েছেন। তিনি ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছেন।
কৃষ্ণ প্রসাদ অভিযোগ করেন যে, পুলিশ এই মামলায় একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে আটক করেছে। কারণ ওই ব্যক্তি সেদিন আমাদের সাথে ছিলেন। যা সম্পূর্ণ অন্যায়।
কৃষ্ণা প্রসাদ এদিন সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের বাড়াবাড়ি বেশিদিন সহ্য করা হবে না। আসন্ন বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জনগণ এর উপযুক্ত জবাব দেবে। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, যদি বিজেপি কর্মীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা অব্যাহত থাকে, তাহলে দল ভবিষ্যতে আসানসোলে পুলিশ কমিশনারের অফিসের পাশাপাশি মন্ত্রী মলয় ঘটকের বাসভবন ঘেরাও করবো।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ জানুয়ারি আসানসোল উত্তর থানায় গোলাপি হেমব্রোম নামে এক মহিলা একটি ঘটনার কথা বলে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএসের একাধিক ধারায় একটি মামলা করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।










