ভারতের মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার একটি বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশের বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA)।
বুধবার মুম্বই থেকে উড়ে যাওয়া একটি বিমান অজিত পাওয়ারের নির্বাচনী এলাকা বারামতির বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সময় ভেঙে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ার ছাড়াও তাঁর দু’জন স্টাফ সদস্য এবং বিমানের দু’জন ক্রু সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ এখনও সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। অনলাইন ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটরাডার জানিয়েছে, বারামতি বিমানবন্দরে দ্বিতীয়বার অবতরণের চেষ্টা করার সময় বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিএসআর সংস্থার পরিচালিত লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটি সকাল প্রায় ৮টা ৪৫ মিনিটে (ভারতীয় সময়) ভেঙে পড়ে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, শরদ পাওয়ারের ভাইপো অজিত পাওয়ার জেলা পরিষদ নির্বাচনের একটি জনসভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, মাটিতে আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানে বিস্ফোরণ ঘটে। “ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখি বিমানটি দাউদাউ করে জ্বলছে। পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণ হয়। আগুন এতটাই তীব্র ছিল যে কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি,” বলেন তিনি।
৬৬ বছর বয়সি অজিত পাওয়ার সমবায় আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে নিজের ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন। মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী মুখ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের অংশ হিসেবে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাজ্যের চিনি বলয়ে তাঁর প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য এবং গ্রামীণ ভোটারদের সংগঠিত করার ক্ষমতার জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন।
অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে রাজ্যজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বারামতি হাসপাতালে তাঁর দেহ নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে ভিড় জমায় সাধারণ মানুষ। মহারাষ্ট্র সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এই সময় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে, সরকারি দফতর ও স্কুল বন্ধ থাকবে এবং সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “আমার আবেগ প্রকাশ করার ভাষা নেই। আমি আমার এক শক্তিশালী ও উদার বন্ধুকে হারালাম।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এক্স-এ শোক প্রকাশ করে বলেন, অজিত পাওয়ারের “অকাল প্রয়াণ অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক।” তিনি আরও বলেন, দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের ক্ষমতায়নে অজিত পাওয়ারের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয় থাকবে।










