দুর্গাপুর : ইডি – সিবিআই ঠিক ভাবে কাজ করলে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জেলে যেতে হবে বলে দাবি বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষের।
মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে বুধবার বীরভূমে জয়দেব – কেন্দুলির মেলায় যোগ দেন তিনি। তার আগে এদিন সকালে দুর্গাপুরের মুচিপাড়ার শিবাজী পার্কে প্রাতঃভ্রমণের পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসআইআরের সময় বাড়ানোর দাবি করেন দাপুটে এই বিজেপি নেতা।
তিনি বলেন, ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অভিযোগ অর্থাৎ ফর্ম ৭ জমা দেওয়ার সময় দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আমরা জানি এখনও বহু নাম আছে যা বিতর্কিত।তাদের প্রয়োজনীয় নথি নেই। আমাদের যদি এইসব নিয়ে অভিযোগ করতে না দেওয়া হয় বা ফর্ম ৭ না নেওয়া হয় তাহলে এই এসআইআরের মানে কি ?
তিনি বলেন, জোর করে নাম ঢোকানো হচ্ছে। কমিশনের নির্দেশ মানছে না রাজ্য সরকারের আধিকারিকরা। এমনটা হলে এই এসআইআর করে লাভ নেই। তাহলে সময় বাড়ানো হোক। সব অভিযোগ যতক্ষণ না আসছে ততক্ষণ যেন এসআইআর চলতে থাকে। তা না হলে এসআইআর মুল্যহীন। কমিশনকে এটা ভাবতে হবে ।
একইসঙ্গে, দুর্গাপুরের মুচিপাড়ায় ‘চায়ে-পে-চর্চা’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে নানা ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসকে এইভাবেই আক্রমণ করেন রাজ্যের দাপুটে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ইডি-সিবিআই ঠিকভাবে কাজ করলে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও নেতা বাদ যাবে না। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীকেও জেলে যেতে হবে। ইডির হাত থেকে ফাইল ছিনতাইয়ের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সঙ্গে থাকা সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা হওয়া উচিত বলেও দাবি করেন তিনি।
দিলীপ ঘোষ বলেন, আমি তো আগেই বলেছি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেদিন আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধারের বাড়িতে যাওয়া ইডির আধিকারিকদের হাত থেকে ফাইল ছিনতাই করছেন। তার অভিযোগ, রাজ্যে প্রশাসন ভেঙে পড়েছে। মানুষের শেষ ভরসা এখন আদালত। তাই কথায় কথায় কোনওকিছু পেতে হলে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গাড়িতে হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাজ্যে বিজেপি কর্মীদের উপর একের পর এক হামলা হলেও দোষীরা শাস্তি পাচ্ছে না। এটা নতুন কি আর ঘটনা।
তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা বলেন, তিনি এখন নিজের সম্প্রদায়ের মানুষজনদের এককাট্টা করার চেষ্টা করছেন। মুসলিমদের ক্ষমতায় থাকার জন্য শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ব্যবহার করেছে, তা ওই বিধায়ক বুঝতে পেরেছেন। তাই তিনি সরব হয়েছেন।
দিলীপ ঘোষ বলেন, রাজ্যের মানুষ পরিবর্তন চাইছেন। সেই পরিবর্তনের আশা জাগাতে পারলেই জনগণের সমর্থন মিলবে। ২০২৬ এ পরিবর্তন হবেই।










