উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, কুলতলি : সুন্দরবনের মৈপীঠে ঠাকুরান নদীর চরে অবাধে ম্যানগ্রোভ কাটা হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছিল কয়েক সপ্তাহ আগেই। কিন্তু সেই অভিযোগের পরেও দক্ষিণ ২৪ পরগনা বনবিভাগ কার্যত কোনও কড়া পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশপ্রেমীদের মধ্যে।
কুলতলির মৈপীঠ একটি পরিচিত পর্যটন কেন্দ্র। ঘাটের পশ্চিম দিকে রাস্তার ধার ঘেঁষে ঠাকুরান নদীর চর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল ঘন ম্যানগ্রোভ বন। এলাকায় গিয়ে দেখা যাচ্ছে, সেই বাদাবনের বড় অংশই পুরোপুরি উপড়ে ফেলা হয়েছে। ঘন ম্যানগ্রোভ এখন আর তেমন অবশিষ্ট নেই বলেই অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, ঠাকুরান নদীতে নিয়মিত বনবিভাগের বোট টহল চললেও কীভাবে নজরদারির ফাঁক গলে এইভাবে ম্যানগ্রোভ নিধন সম্ভব হল? পরিবেশপ্রেমীদের মতে, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ এই ম্যানগ্রোভ বন। তা এভাবে ধ্বংস হলে ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় নদীর জল উপচে গ্রামে ঢোকার আশঙ্কা বাড়বে।
এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, শাসকদলের এক দাপুটে নেতার সঙ্গে বনবিভাগের যোগসাজশেই এই ম্যানগ্রোভ কাটা হয়েছে। ম্যানগ্রোভ সাফ করে জমি প্লট করে বিক্রির পরিকল্পনাও চলছে বলে দাবি তাঁদের। তবে কারা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।
এ দিকে একই এলাকায় সেচদপ্তরের জমি দখল করে অবৈধ নির্মাণ কাজ চলার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে এখানেও প্রশ্ন তুলছেন বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা বনাধিকারিক (ডিএফও) নিশা গোস্বামী বলেন, নতুন করে ম্যানগ্রোভ কাটার খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগের ঘটনার তদন্ত চলছে এবং এলাকায় নজরদারি রাখা হচ্ছে। অন্য দিকে, সেচদপ্তরের এক আধিকারিক জানান, জমি দখল ও নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
তবে সব মিলিয়ে সুন্দরবনের সংবেদনশীল পরিবেশে এ ধরনের ঘটনার পরেও কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।










