ছবি: রাজীব বসু
আই প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের কলকাতার ৭ নম্বর লাউড্রন স্ট্রিটের বাড়ি ও গোদরেজ ওয়াটারসাইডে আইপ্যাকের অফিসে বৃহস্পতিবার সকালে তল্লাশি চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সেই তল্লাশির মাঝেই হঠাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল হাতে বেরিয়ে আসা এবং আইপ্যাকের অফিস থেকে একাধিক নথি গাড়িতে তোলার দৃশ্য ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় রাজ্যজুড়ে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তাঁর দলের আইটি সেলের গুরুত্বপূর্ণ হার্ডডিস্ক, প্রার্থীর তালিকা ও একাধিক নথি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল ইডি। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পাল্টা অভিযোগ, সাংবিধানিক পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নথি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইডির বক্তব্য, কয়লা দুর্নীতি মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই এই তল্লাশি, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই।
ভোটের মুখে আইপ্যাক কর্ণধারের বাড়ি ও অফিসে ইডির হানা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই একাধিকবার জানিয়েছেন, আইপ্যাক রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক নানা ক্ষেত্রে এই ভোটকুশলী সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ২০২১ সালে প্রশান্ত কিশোর আইপ্যাক ছাড়ার পর সংস্থার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন প্রতীক জৈন। বাংলায় আইপ্যাকের যাবতীয় কাজ ও তৃণমূলের সঙ্গে চুক্তি রক্ষার দায়িত্বও তাঁর উপরেই।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় বৃহস্পতিবার একযোগে দেশের ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে—এর মধ্যে ছ’টি পশ্চিমবঙ্গে ও চারটি দিল্লিতে। ইডির দাবি, অনুপ মাজির কয়লা পাচার চক্রে চুরি যাওয়া কয়লা বাঁকুড়া, বর্ধমান ও পুরুলিয়ার একাধিক সংস্থার কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে ‘শাকম্ভরী গ্রুপ অফ কোম্পানিজ’-এর নাম। এই আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই হাওয়ালা যোগের সন্ধান মেলে এবং সেখান থেকেই উঠে আসে আইপ্যাকের নাম।
ইডির বক্তব্য অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান প্যাক কনসালটিং প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি টাকার হাওয়ালা লেনদেন হয়েছে। অভিযুক্ত একাধিক ব্যক্তির বয়ানে প্রতীক জৈনের নাম উঠে এসেছে এবং তাঁর মধ্যস্থতায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সামনে এসেছে।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, আইপ্যাক একটি কর্পোরেট সংস্থা, সেখানে প্রার্থীর তালিকা থাকার প্রশ্নই ওঠে না। কর্পোরেট সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো কেন্দ্রীয় এজেন্সির এক্তিয়ারভুক্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে ইডি ইতিমধ্যেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, কয়লা দুর্নীতি মামলার তল্লাশির মধ্যেই অসাংবিধানিকভাবে নথি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পুরো ঘটনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।










