সালানপুর : অ্যান্ড্রয়েড ফোন সহ ধরা পড়লেই ফোন বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি এক মাসের জন্য কাজ থেকে সাসপেন্ড করার কঠিন বিধি-নিষেধ জারি করল সালানপুর থানা এলাকার একটি বেসরকারি ইস্পাত কারখানা।
দেন্দুয়া থেকে কল্যানেশ্বরী যাওয়ার রাস্তার পাশে শাকম্ভরী গ্রুপের এই কারখানা এলোকুইন্ট স্টিল প্রাইভেট লিমিটেডে বিজ্ঞপ্তি জারির পরেই কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। তারা অভিযোগ জানিয়ে বলেছেন, কারখানার কর্মীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সামান্যতম নজর না দিয়ে কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র চেষ্টা করে যাচ্ছেন যেন কারখানার ভেতরের কোনও খবরা খবর, দুর্ঘটনার বিষয় কোনও খবর বাইরে বের না হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, ৩১ ডিসেম্বর এই কারখানায় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মী চন্দন কুমার ক্রেন থেকে পড়ে গিয়ে ভয়ংকর জখম হন। তার একটি পা পিষে যাওয়ার পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অংশে মারাত্মক চোট লেগেছে। তড়িঘড়ি অত্যন্ত সন্তর্পণে দুর্ঘটনাগ্রস্থ ওই কর্মীকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। এরপর ওই দিনই কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের অধিকর্তা জিতেন্দ্র ঝা এ্যন্ড্রয়েড মোবাইল সম্পর্কিত এই বিধি-নিষেধ আরোপ করেছেন।
কর্মীদের অভিযোগ, সুরক্ষার বিষয়ে তাদের কোনও রকম প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না, কাজের সময় কারখানার ভেতরে সুরক্ষা সরঞ্জাম দেওয়া হয় না। কর্মীদের ১২ ঘন্টা করে কাজ করতে হয় বলেও তাদের অভিযোগ। কিন্তু এর জন্য সরকার নির্ধারিত বেতনও তাদের দেওয়া হয় না বলে তারা অভিযোগ করেছেন। কর্মীদের দুর্দশার কথা জানিয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলাশাসকের কাছে লিখিত আবেদনও জানানো হয়েছে। অবিলম্বে উপযুক্ত তদন্ত করে এই কারখানায় কর্মীদের জীবনের স্বার্থে সুরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত বেতন যাতে দেওয়া হয় সেই দাবি করা হয়েছে জেলা শাসকের কাছে পাঠানো ই-মেলে।
বাইরে থেকে এসে কর্মীরা পেটের দায়ে এখানে কাজ করলেও উপযুক্ত কাজের পরিবেশ পান না বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়াও অভিযোগ উঠছে যে, বারবার কর্মীরা দুর্ঘটনাগ্রস্ত হলেও কর্তৃপক্ষ “তদন্ত চলছে” বলা ছাড়া ইতিবাচক কোনও পদক্ষেপ করছেন না। বিহারের বাসিন্দা চন্দন কুমার ৩১ ডিসেম্বর দুর্ঘটনা গ্রস্ত হওয়ার আগে এই কারখানাতেই বিস্ফোরণের জেরে রাহুল ভান্ডারী নামে অন্য এক কর্মী গুরুতর জখম হয়েছিলেন। সেই কর্মীর দেহে এখনো ক্ষত চিহ্ন রয়ে গেছে। স্থানীয় সমাজ সচেতন ব্যক্তিরা এই বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন কারখানার ভেতরে কাজের সময় কর্মীদের সুরক্ষার জন্য হেলমেট সেফটি সু বেল্ট গ্লাভস ইত্যাদি সরঞ্জামের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি তাদের সুরক্ষার বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ কারখানা কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। বিষয়গুলি কারখানা কর্তৃপক্ষ বরাবর মেনে চলছেন কিনা সেই বিষয়ে নজরদারি করার জন্য ফ্যাক্টরি ইন্সপেক্টর এবং স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগী হওয়ারও আবেদন জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় মানুষজনের অভিযোগ, কোনও দুর্ঘটনা ঘটলেই কর্মীদের অতি প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলিকে ছাঁটাই করতে তৎপর হয়ে ওঠেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। ৩১ ডিসেম্বর জারি করা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার পিছনে যতটা না সুরক্ষা ব্যবস্থায় জোর দেওয়ার ইচ্ছে তার চেয়ে বেশি কারখানার ভেতরের কোনও তথ্য যাতে বাইরে বের না হয় সেই চেষ্টা তীব্রতর বলে তারা অভিযোগ এনেছেন।










