কনকনে ঠান্ডা। ছবি: রাজীব বসু
জেলায় জেলায় উত্তুরে হাওয়ার দাপটে হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় কাবু গোটা রাজ্য। বছরের শেষ দিনে দার্জিলিঙে তাপমাত্রা নেমে গেল ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, শীতের লড়াইয়ে এবার একাধিক জায়গায় উত্তরবঙ্গকে টেক্কা দিচ্ছে দক্ষিণবঙ্গও। দার্জিলিঙে আগামী কয়েক দিনে তুষারপাতের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দার্জিলিঙে হালকা বৃষ্টি ও তুষারপাত হতে পারে। আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও কালিম্পঙেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাজ্যের বাকি অংশে আপাতত শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সব জেলায় ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোথাও কোথাও দৃশ্যমানতা ১৯৯ মিটার থেকে কমে ৫০ মিটার পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। আগামী চার দিন উত্তরবঙ্গে রাতের তাপমাত্রায় বড় পরিবর্তন না হলেও, তার পরের তিন দিনে পারদ আরও দুই থেকে তিন ডিগ্রি কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
শীতের নিরিখে রাজ্যে ‘ফার্স্ট বয়’ দার্জিলিং হলেও দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে দক্ষিণবঙ্গের বীরভূমের শ্রীনিকেতন। বুধবার সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছিল সাড়ে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। নদিয়ার কল্যাণীতে পারদ ছিল ৭ ডিগ্রি, সিউড়িতে ৭.২ এবং আসানসোলে ৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাঁকুড়া ও বর্ধমানে ৮ ডিগ্রি, ব্যারাকপুরে ৮.৬, উলুবেড়িয়ায় ও মগড়ায় ৯.৫, বহরমপুর ও ক্যানিংয়ে ৯, পানাগড়ে ৯.২, কলাইকুণ্ডায় ৯.৪, ঝাড়গ্রামে ৯.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে।
উপকূলবর্তী এলাকাতেও ঠান্ডার দাপট স্পষ্ট। দিঘা ও পুরুলিয়ায় তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি, ডায়মন্ড হারবারে ১০.১, কাঁথিতে ১০.৫ এবং বসিরহাটে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কলকাতার উপকণ্ঠ দমদমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছিল ১০ ডিগ্রিতে। সল্টলেকে ১১.৪ এবং হলদিয়ায় ১১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি, যা চলতি মরসুমের শীতলতম।
উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলির মধ্যে কালিম্পঙে পারদ নেমেছে ৮.৩ ডিগ্রিতে। মালদহে ৯.৫, কোচবিহারে ১০ এবং জলপাইগুড়িতে ১১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গেও ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে দৃশ্যমানতা ৫০ মিটার পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। আবহাওয়া দফতরের মতে, আগামী ২৪ ঘণ্টা দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা প্রায় একই থাকবে। তার পরের তিন দিনে পারদ দুই থেকে তিন ডিগ্রি বাড়লেও, পরবর্তী কয়েক দিন রাতের তাপমাত্রায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।










