ছবি: বুবাই শীল
অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: শীত জাঁকিয়ে পড়তেই শহর লাগোয়া তিস্তা পাড়ে শুরু হয়েছে বনভোজন। দূষণ ঠেকাতে তিস্তাকে ‘নো প্লাস্টিক জোন’ হিসেবে তুলে ধরল জেলা প্রশাসন। প্রতি বছর শহর ও জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রচুর মানুষ তিস্তাচরে পিকনিকে আসেন। তাদের জন্য প্লাস্টিকের বিকল্প সামগ্রীর ব্যবস্থা করল প্রশাসন। জুবিলী পার্ক লাগোয়া এলাকায় সূচনা হল পরিবেশবান্ধব সামগ্রীর স্টল ‘সবুজ সোপান’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির রইলেন সদর মহকুমা শাসক, সদর বিডিও-সহ অন্যরা।
বিগত কয়েক বছর ধরেই স্থানীয় ও বহিরাগত পর্যটকেরা শীতের মরশুমে ভিড় করছেন তিস্তাপারে। দল বেঁধে পিকনিকও করতে আসেন অনেকে। তাদের ব্যবহৃত প্লাস্টিক সামগ্রীর কারণে অপরিচ্ছন্নতা ও নদীবক্ষে দূষণের সৃষ্টি হচ্ছিল বলে অভিযোগ পরিবেশপ্রেমীদের।

তিস্তা পাড়ে শুরু হয়েছে বনভোজন
এ বারে মরশুম শুরুর মুখেই বড়দিনের প্রাকমুহুর্তে খড়িয়া জিপি-র অন্তর্গত তিস্তাপারে পরিবেশবান্ধব সামগ্রীর স্টল খুলে দিল প্রশাসন। এই স্টলে মিলবে শালপাতার থালা, মাটির ভাঁড়-সহ একাধিক সামগ্রী। এখান থেকেই ন্যায্য মূল্যে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নিতে পারবেন পিকনিক করতে আসা মানুষজন। পরিবেশকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, বারবার সতর্ক করেও কোন লাভ হচ্ছিল না। প্লাস্টিকজাত সামগ্রী নিষিদ্ধ হওয়ায় এই এলাকায় দূষণ কমবে।

মিহির কর্মকার, সদর বিডিও
সদর বিডিও মিহির কর্মকার বলেন, “স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা স্টলটি চালাবেন৷ ভিআরপি-রা রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। পুলিশকেও নজরদারির জন্য বলা হয়েছে।”
পিকনিক স্পটে প্রবেশের মুখে একটি গেট করা হচ্ছে। কেউ প্লাস্টিক নিয়ে ঢুকছেন কি না তা পরীক্ষা করে দেখবে পুলিশ ও গ্রাম পঞ্চায়েত।

তমোজিৎ চক্রবর্তী, সদর মহকুমাশাসক
সদর মহকুমাশাসক তমোজিৎ চক্রবর্তী বলেন, “দেখা গেচে, পিকনিক করে চলে যাওয়ার পরে তিস্তাচরে প্লাস্টিজাত আবর্জনা পড়ে থাকছে। আমাদের এসে সেগুলোর ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। এবারে ব্লক প্রশাসন, সদর পঞ্চায়েত সমিতি ও খড়িয়া জিপি মিলে এই উদ্যোগ নিয়েছে। প্লাস্টিক ও থার্মোকল বিরোধী একটি পদক্ষেপ নেওয়া হল পরিবেশ বাঁচাতে।”










