বাংলাদেশে বাড়তে থাকা অস্থিরতার আবহে সামনে চলে এল পাকিস্তানের একটি বড় ষড়যন্ত্রের তথ্য। চরম সতর্কতায় রয়েছে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ঢাকায় অশান্তির সুযোগ নিয়ে আইএসআই বাংলাদেশ করিডোর ব্যবহার করে ভারতে জঙ্গি অনুপ্রবেশের পরিকল্পনা করছে।
সূত্র অনুযায়ী, পাকিস্তানি সংস্থার কাছ থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একাধিক জঙ্গিকে অসম, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢোকানোর ছক কষা হয়েছে। অভিযোগ, বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে জিহাদের নামে ভারতে পাঠানোর চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইএসআইয়ের পাশাপাশি লস্কর-ই-তৈবা (LeT) ও জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর মতো পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলি সেখানে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে গোয়েন্দা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠনগুলি জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (JMB), আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (ABT) এবং হিজব-উত-তাহরিরের মতো উগ্রপন্থী বাংলাদেশি গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে লস্কর ও জইশের সঙ্গে যুক্ত একাধিক জঙ্গির উপস্থিতির তথ্য মিলেছে। তাদের মধ্যে জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত মাজহার সইদ শাহর নামও উঠে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সীমান্ত জুড়ে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাদির হত্যাকাণ্ড ও বাংলাদেশে অশান্তি
১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় প্রচার চালানোর সময় ৩২ বছরের যুবনেতা শরিফ ওসমান বিন হাদির মাথায় গুলি চালায় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
হাদির মৃত্যুর পর বাংলাদেশের বিভিন্ন অংশে হিংসা ও ভাঙচুর ছড়িয়ে পড়ে। চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাই কমিশনারের বাসভবনে পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের কাছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে হাদির দাফন সম্পন্ন হয়। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শেষকৃত্যে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন।
দীপুচন্দ্র দাসকে পিটিয়ে খুন
বাংলাদেশের ময়মনসিংহে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে এক হিন্দু ব্যক্তি দীপুচন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। উত্তেজিত জনতা তাঁর দেহে আগুনও ধরিয়ে দেয়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ দিকে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার প্রতিবাদে ভারতের বিভিন্ন জায়গায়ও তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু হয়েছে।










