অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: শহরের হাইস্কুল লাগোয়া কয়েকটি প্রাথমিক স্কুলেই বাচ্চাদের ভর্তি করার প্রবণতা অভিভাবকদের বড় অংশের। এর জেরে শহর ও লাগোয়া এলাকার অন্য প্রাথমিক স্কুলগুলি ধুঁকছে বলে অভিযোগ। কম পড়ুয়া বিশিষ্ট স্কুলগুলিতে পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়াতে একগুচ্ছ পরামর্শ জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শকের দফতরের। ইতিমধ্যেই জেলা জুড়ে প্রাথমিক স্কুলের প্রাক-প্রাথমিকে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পড়ুয়া-বহুল স্কুলে একশোর বেশি ফর্ম জমা পড়লেই লটারির মাধ্যমে ভর্তি যাতে ভালো ভাবে সম্পন্ন হয় সে দিকে নজর রাখছেন দফতরের আধিকারিকেরা।
জেলায় ১২ শতাধিক প্রাথমিক স্কুল রয়েছে। গ্রামীণ এলাকার স্কুল গুলিতে পড়ুয়ার সংখ্যা সন্তোষজনক হলেও সদর শহরের বেশিরভাগ প্রাথমিক স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ক্রমশ কমছে৷ শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, হাইস্কুল লাগোয়া কয়েকটি প্রাথমিক স্কুলে নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি পড়ুয়া ভর্তি নেওয়া হচ্ছে৷ রাজনৈতিক সুপারিশের ফলে লটারি প্রক্রিয়ার পরেও অতিরিক্ত পড়ুয়া ভর্তি নিচ্ছে কিছু স্কুল৷ এর জেরে শহর ও শহর লাগোয়া এলাকার অন্য প্রাথমিক স্কুল গুলিতে ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে পড়ুয়ার সংখ্যা। একাংশ শিক্ষক বলেন, “গতবার আমাদের স্কুলে প্রাক প্রাথমিকে ভর্তি হওয়া বেশ কিছু পড়ুয়া পরবর্তীতে, কয়েক মাস বাদে হাইস্কুল লাগোয়া প্রাথমিক স্কুলে ভর্তি হয়েছে। এরকম চলতে থাকলে অনেক স্কুলেই আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পড়ুয়ার সংখ্যা শূন্যে নেমে আসবে। প্রশাসনিক তরফে বিষয়টি দেখা উচিত।”

শ্যামলচন্দ্র রায়, ডিআই (প্রাথমিক)
নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক স্কুলগুলিতে প্রাক-প্রাথমিকে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়া ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক শ্যামলচন্দ্র রায়। তিনি অবশ্য ভর্তির সুপারিশ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। শ্যামলচন্দ্র রায় বলেন, “যে সব স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা কমছে তাদের কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্কুল লাগোয়া এলাকায় বাড়ি-বাড়ি যেতেও বলা হয়েছে৷ অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র থেকে শিশুদের ঠিকানা জোগাড় করে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে৷ স্টুডেন্টস উইক পালন, অভিভাবকদের সঙ্গে স্কুলে বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”










