উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: জয়নগরের নিমপীঠে আবার ফিরছে সুন্দরবনের হারিয়ে যাওয়া দেশীয় ধান। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ধান চাষে ঝুঁকে পড়ায় গ্রামবাংলা থেকে অনেক দেশীয় ধানের প্রজাতি হারিয়ে গিয়েছিল। কম ফলন এবং বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে না-পারা ছিল এর মূল কারণ। তবে দেশীয় ধানের স্বাদ ও গুণমান ভোলেননি কৃষক ও গবেষকেরা। সেই ভাবনা থেকেই ধীরে ধীরে পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে এই সব পুরোনো ধানের প্রজাতি।
নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রমের কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র এখন পর্যন্ত ২২টি দেশীয় ধানের প্রজাতির চাষ করে দারুণ সাফল্য পেয়েছে। তাদের ফার্মে চাষ হচ্ছে খেউস, তুলাইপাঞ্জি, খেজুরছড়ি, কেরালা সুন্দরী, কালা ভাত, চিনা কামিনী, কালো নুনিয়া, মোহনভোগ, গোবিন্দভোগ, কমলাভোগ, হরিনা খুড়ি, তালমুগুর, তালদি, জঙ্গলমুরা-সহ বহু হারিয়ে যাওয়া প্রজাতি। কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণও দিচ্ছে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র।
কেন্দ্রের কৃষি বিশেষজ্ঞ ড. সোমনাথ সরদার জানান, আগে গ্রামাঞ্চলে প্রচুর দেশীয় ধানের চাষ হত। এখন সেই ধারা প্রায় বন্ধ। তাই এই চাষকে ফের জীবন্ত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, দেশীয় ধানে রোগ-পোকার আক্রমণ খুবই কম। কেরালা সুন্দরী ও মালাবতীর ফলন কিছুটা কম হলেও কমলাভোগ ও কেরালা সুন্দরীর মতো প্রজাতিতে ফলন তুলনামূলক ভালো। প্রায় ২০০ সেমি পর্যন্ত লম্বা হয় এই জাতের ধান এবং নিচু জমিতেও এর ফলন ভালো হয়। ১৬০-১৬৫ দিনের মধ্যেই চাষ সম্পূর্ণ হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের আশা, সঠিক বীজ এবং প্রশিক্ষণ পেলে সুন্দরবন এলাকায় আবারও বাড়তে পারে দেশীয় ধানের উৎপাদন।










