অর্থনীতি এবং প্রতিরক্ষাক্ষেত্রে দ্রুত আগ্রগতির ফলেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রভাব বাড়ছে। আত্মনির্ভরতার পথে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গি দমন অভিযান এবং কোভিড কালে বিভিন্ন দেশে ভ্যাকসিন পাঠিয়ে মানবিকতার বার্তা—সব মিলিয়ে ভারতের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। সেই উন্নতি প্রতিফলিত হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার লোই ইনস্টিটিউট (Lowy Institute)-এর এশিয়া পাওয়ার ইনডেক্স ২০২৫-এ, যেখানে ভারত উঠে এসেছে তৃতীয় স্থানে। ভারতের আগে রয়েছে কেবল আমেরিকা ও চিন। জাপান ও রাশিয়ার মতো দেশকেও পিছনে ফেলেছে ভারত।
লোই ইনস্টিটিউট আটটি ক্ষেত্রের ১৩১টি সূচকের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করেছে। সামরিক ক্ষমতা, প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক, অর্থনীতি, কূটনৈতিক সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব—এই সব ক্ষেত্রই বিশ্লেষণের অন্তর্ভুক্ত। ২৭টি দেশের মধ্যে আমেরিকা প্রথম স্থানে পেয়েছে ৮১.৭ পয়েন্ট। দ্বিতীয় স্থানে থাকা চিনের পয়েন্ট ৭৩.৭। ভারত ৪০ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। জাপান চতুর্থ এবং রাশিয়া পঞ্চম স্থানে উঠেছে কয়েক বছর পরে। পাকিস্তান পেয়েছে মাত্র ১৪.৫ পয়েন্ট।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের অর্থনীতি এবং সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কোভিডের পর থেকে ভারতের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারও দ্রুত হয়েছে। বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে ভারত ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করেছে এবং বিশেষজ্ঞদের মতে খুব শিগগিরই ভারত আরও উপরে উঠে আসবে। সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে ভারত এখন আত্মনির্ভরতার পথে এগোচ্ছে। শুধু নিজস্ব চাহিদা মেটানো নয়, রফতানিও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা বাড়ছে। পাশাপাশি সীমান্তের ওপারে জঙ্গি দমন অভিযান এবং সাম্প্রতিক অপারেশন সিঁদুরে ভারতের সামরিক সক্ষমতার দৃষ্টান্ত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা—এই তিনের সমন্বয়ে এশিয়ায় ভারত এখন আরও শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করছে এবং আগামী দিনে এই অবস্থান আরও মজবুত হবে।










