Home / প্রবন্ধ / রোববারের লেখা / হিরোসিমার ৮০ বছর—তিন খুঁটির উপর দাঁড়িয়ে থাকা শপথ

হিরোসিমার ৮০ বছর—তিন খুঁটির উপর দাঁড়িয়ে থাকা শপথ

১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোসিমার আকাশে ঝুলে থাকা সেই কালো সকাল আজও মানবজাতির বিবেককে নাড়া দেয়। অ্যাটম বোমার ধ্বংসলীলার আট দশক পেরিয়ে বিশ্ব আবারও দাঁড়াল স্মরণ, দায়বদ্ধতা ও সহনশীলতার বার্তা নিয়ে—গণবিধ্বংসী অস্ত্রহীন এক পৃথিবী গড়ার অঙ্গীকারে। লিখলেন অরুণাভ গুপ্ত

সেই দিন

৬ আগস্ট, ১৯৪৫। হিরোসিমার উপর আছড়ে পড়েছিল অ্যাটম বম্ব যার আদুরে নাম ‘লিটল বয়’। জাপানি শহর নিমেষে ছিন্নভিন্ন, শশ্মান, প্রায় ১,৪০,০০০ মানুষের জীবন খতম। আর গোটা পর্বের নায়ক ইউএস। মর্মান্তিক ঘটনার ৮০ বছর হল। এখানেই শেষ নয়, তিন পর ফের অ্যাটসিং বম্বিং, টার্গেট নাগাসাকি- শব সংখ্যা ৭০,০০০-এর উপর।

জাপানের আত্মসমর্পণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি। অভিশপ্ত দিনটির কদর্য স্মৃতি নিয়ে কিছু মানুষ বাঁচলেন, তাঁদের গড়পড়তা বয়স এখন ছিয়াশির গণ্ডি টপকেছে। হিরোসিমার আশি বছরকে কেন্দ্র করে বিশ্বজনীন বার্ষিকীতে পুরনো শপথ আওড়ানো হল।

শপথ

শপথের থিম তিন খুঁটির উপর দাঁড়িয়ে, যেমন স্মরণ, দায়িত্ব ও সহনশীলতা। মোদ্দা সারমর্ম হল আণবিক সমরাস্ত্র সীমিত করা বা বিলুপ্ত করা। গণবিধ্বংসী অস্ত্র কোনোমতেই না। নেভার এগেইন, নো মোর হিরোসিমা, নো মোর নাগাসাকি। তৈরি করো শান্তির বিশ্ব। উপস্থিতিতে হাজির বেঁচে থাকা ও তাঁদের পরিবার, আর ১২০ দেশের প্রতিনিধি, রেকর্ড, স্লোগানে-স্লোগানে আবেগ।…এ বার সকাল ৮টা ১৫ মিনিট পিস বেল বাজলো, এক মিনিট নীরবতা মানা, এই সময় ইউএস বি-২০ বম্ব আঘাত হেনেছিল। ব্যবস্থাপনায় সামান্য গলতি নেই। ব্রাভো।

তার পর

বলে লাভ নেই। দুধের শিশুও জানে ফলাফল ওরাই তো বেশি ভুক্তভোগী। সমরাস্ত্র তৈরি এবং বেচা-কেনায় টক্করের প্রতিযোগিতা চলছে। কোনো প্রশ্ন নয়, এটাই দস্তুর। মানুষ আমরা জন্মেছি সহ্য করার জন্য়। অ্যালবার্ট আইনস্টাইন লিখলেন: The world will not be destroyed by those who do evil, but by those watch them without doing anything.

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *