কোলফিল্ড টাইমস: চিত্তরঞ্জন রেল শহরের প্রায় অর্ধেক ভোটারের নাম এসআইআরের প্রভাবে বাদ পড়তে চলেছে বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে এখানে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৯ হাজার ৭০০।
কিন্তু এসআইআর ফর্ম দেওয়ার জন্য প্রায় সাড়ে ৮ হাজার ভোটারের নির্দিষ্ট ঠিকানাযুক্ত বাসস্থানের হদিশই পাওয়া যায় নি। অর্থাৎ, সেইসব আবাসনগুলিই নেই। ফলে, এদের হাতে এসআইআর ফর্ম দিতেই পারেননি সংশ্লিষ্ট বিএলওরা। বিষয়টি সালানপুর ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বদলীয় বৈঠকে পরিষ্কার করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও কিছু ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারন অনেকেই চিত্তরঞ্জন থেকে ঝাড়খন্ড বা অন্যত্র চলে গেছেন। অনেক পুরনো ভোটারের মৃত্যু হয়েছে, অনেকেই সিএলডব্লুর চাকরি থেকে অবসর নিয়ে স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে গেছেন, এইসব নামগুলিও বাদ পড়তে পারে। ফলে, চিত্তরঞ্জন রেল শহরের ১৯ হাজার ৭০০ ভোটারের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, সালানপুর ব্লকের মোট ১ লক্ষ ২৮ হাজার ৫৯১ জন ভোটারের মধ্যে ১ লক্ষ ২৬ হাজার ভোটারের হাতে এনুমারেশন ফর্ম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অর্থাৎ, ৯৯.৭৬% ভোটারের মধ্যে ফর্ম বিলি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৮৯ হাজার ১৮৩ জনের ফর্ম ডিজিটাইজড করা হয়ে গেছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এখনও পর্যন্ত সালানপুর ব্লকের প্রায় ৮৮৭৪ জন ভোটারকে পাওয়া যায় নি। হয় তারা অন্যত্র চলে গেছেন কিম্বা মৃত্যু ঘটেছে বলে অনুমান। এছাড়া, প্রায় ৩০ হাজার ব্যক্তি এসআইআর ফর্ম নিলেও এখনও সেগুলি জমা পড়ে নি। এই ৩০ হাজারের থেকেও বেশ কিছু নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা আছে।
ফলে চিত্তরঞ্জন এবং সালানপুর ব্লকের অন্যান্য এলাকা মিলিয়ে এখনো পর্যন্ত ১৭ হাজারেরও বেশি নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে সালানপুর ব্লক কর্তৃপক্ষ বলেছেন যে, এস আই আর সংক্রান্ত কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এ বিষয়ে প্রকৃত ভোটারদের অযথা দুশ্চিন্তায় না পড়ার আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিএলওরা তাদের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট ভাবে পালন করছেন। প্রযুক্তিগত সমস্যায় সাময়িক কিছু অসুবিধা দেখা দিলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সমস্ত কাজ সম্পন্ন করা যাবে বলে প্রশাসন আশাবাদী। ব্লক প্রশাসন কর্তৃপক্ষ সকলের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছেন অযথা আতঙ্কিত না হয়ে যেকোনও অসুবিধায় সংশ্লিষ্ট বিএলও কিম্বা অন্য আধিকারিকদের সঙ্গে তারা যেন যোগাযোগ করেন।










