পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি উঠে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, তাঁকে কারাগারের ভেতরে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। অভিযোগটি করেছে বালুচিস্তান বিদেশ মন্ত্রক। তাঁদের দাবি, — পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছেন। তবে এখনো পর্যন্ত এই অভিযোগের কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ নেই।
এদিকে, ইমরান খানকে যে কারাগারে রাখা হয়েছে, তার বাইরে ভিড় জমে থাকা মানুষের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হচ্ছে, ইমরান খানের বোনেরা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জেলের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে যে তিনি হয়তো আর জীবিত নেই।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ইমরান খানকে খুনের দাবি
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হচ্ছে, রাওয়ালপিণ্ডির আদিয়ালা কারাগারের ভেতর ইমরান খানকে হত্যা করা হয়েছে। এ ধরনের পোস্ট যারা শেয়ার করেছে, তাদের মধ্যে একটি অ্যাকাউন্ট আবার নিজেদের বালুচিস্তান বিদেশ মন্ত্রক বলে পরিচয় দিয়েছে। তাদের দাবি, ইমরান খান হেফাজতে থাকা তাঁকে অবস্থায় হত্যা করা হয়েছে।
তাদের পোস্টে লেখা ছিল— “পঞ্জাবের বিভিন্ন কারাগার থেকে খবর আসছে যে ইমরান খানকে সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও আইএসআই প্রশাসন হত্যা করেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে। এই খবর সত্য হলে পাকিস্তান রাষ্ট্রের শেষ বৈধতাও ভেঙে পড়বে।”
এই দাবিগুলোর কোনওটিই স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি।
এমনিতে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রধান ইমরান খানকে আগস্ট ২০২৩ থেকে আদিয়ালা কারাগারে রাখা হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে সরকার তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতে একটি ‘অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা’ জারি করেছে, ফলে পরিবার, বন্ধুবান্ধব বা রাজনৈতিক সহকর্মীরা কেউই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না।
মঙ্গলবার তাঁর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর তিন বোন— নোরিন খান, আলিমা খান ও উজমা খান— তাঁকে দেখতে কারাগারে যেতে চাইলে পুলিশের হাতে তাঁদের অপমানিত হতে হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁরা বলেছেন, পুলিশ তাঁদের ও জেলের বাইরে জড়ো হওয়া পিটিআই সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়।
খাইবার পাখতুনখোয়া মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিকেও বারবার ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি সাতবার চেষ্টা করেও সাক্ষাতের অনুমতি পাননি। ইমরান খান আগেও অভিযোগ করেছেন, জেল প্রশাসন সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এবং তাঁর সঙ্গে দেখা করার ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
এই পুরো ঘটনা এখনো রহস্যে ঢাকা। সরকারি ভাবে এ ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য না আসা পর্যন্ত গুজব ও আশঙ্কা আরও বাড়ছে।










