বিএলওদের বিক্ষোভ জাতীয় নির্বাচন কমিশন অফিসের সামনে। ছবি: রাজীব বসু
রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন পর্বে আরও কড়া হচ্ছে কমিশন। প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে ভোটারদের ছবি তুলতে হবে বিএলওদের। তবে এনুমারেশন ফর্মে যদি স্পষ্ট ছবি আগে থেকেই থাকে, তাহলে নতুন করে ছবি তোলার প্রয়োজন নাও হতে পারে। কারণ কমিশন জানিয়ে দিয়েছে—ফর্মে ছবি দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। চাইলে ভোটাররা শূন্যস্থানে যেকোনও মাপের ছবি আটকাতে পারেন। যাঁদের ছবি তোলা সম্ভব নয়, আপাতত তাঁদের পুরনো ছবিই ব্যবহৃত হবে।
ইতিমধ্যেই প্রায় ৮০ লক্ষ এনুমারেশন ফর্ম সংগ্রহ করে ডিজিটাইজ় করা হয়েছে। ভুয়ো বা নকল ভোটার রুখতে ব্যবহার করা হচ্ছে এআই-চালিত সফটওয়্যার, যা মুখের ছবি মিলিয়ে দেখে ত্রুটি খুঁজে বের করবে। সে কারণেই নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে ছবি তোলার উপর জোর দিচ্ছে কমিশন। মৃত, স্থানান্তরিত কিংবা যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় দু’বার রয়েছে—এসব তথ্য সঠিকভাবে জানাতে হবে বিএলওদের। পাশাপাশি প্রতিদিন ৫০টি পর্যন্ত ফর্ম জমা দেওয়া বুথ লেভেল এজেন্টদেরও নিশ্চিত করতে হবে যে, ফর্মে দেওয়া সব তথ্য সঠিক এবং ভোটার তাঁদের উপস্থিতিতেই সই করেছেন। তাঁদের ফোন নম্বর, ঠিকানা, পার্ট নম্বর, সিরিয়াল নম্বরও লিখে দিতে হবে।
এনুমারেশন ফর্মে ভুল বা ভুয়ো তথ্য দিলে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩১ নম্বর ধারায় এক বছর পর্যন্ত জেল বা জরিমানা অথবা উভয়ই হতে পারে। ভুল যাচাইয়ের দায়ও থাকছে বিএলওদের উপর। যাচাইয়ের পরেও যদি কোনও ত্রুটি ধরা পড়ে, তবে ৩২ নম্বর ধারায় বিএলওর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেহেতু সব নথি, ছবি, স্বাক্ষর ও তথ্য এখন ডিজিটাল রেকর্ডে থাকবে, তাই ভুল বা জালিয়াতি খুঁজে বের করা আরও সহজ হবে। ফর্মে কোনও ভুল থাকলে শুধু দাগ টেনে কেটে খালি জায়গায় সঠিক তথ্য লিখতে বলা হয়েছে।
যাঁরা ২৮ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও এখনও এনুমারেশন ফর্ম পাননি, তাঁদের ১৯৫০ বা ০৩৩-২২৩১-০৮৫০ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। নাম, কেন্দ্র, পার্ট নম্বর ও সিরিয়াল নম্বর লিখে ৯৮৩০০৭৮২৫০ নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ করলেও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৪ নভেম্বর থেকে বাড়ি বাড়ি ফর্ম বিলি শুরু হয়েছে এবং কমিশনের রবিবার রাতের বুলেটিন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যেই ৯৯ শতাংশের বেশি এনুমারেশন ফর্ম বিলি হয়ে গিয়েছে।










