জলপাইগুড়ি সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি পিএসি-র চেয়ারম্যান।
অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: শহরের সমাজপাড়ায় অসমাপ্ত করলা সেতু নিয়ে বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির প্রশ্নের মুখে পড়ল এসজেডিএ। তিস্তা ব্যারেজের জমিদাতাদের ক্ষতিপূরণ নিয়েও উঠল একাধিক প্রশ্ন। সাম্প্রতিক বন্যার ফলে উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চলের পরিস্থতি বনাধিকারিকদের মুখ থেকে শুনলেন পিএসি-র চেয়ারম্যান ও সদস্যরা।
বুধবার জলপাইগুড়ির সার্কিট হাউজে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পুরসভা, সেচ ও বনদপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান সুমন কাঞ্জিলাল, সদস্য শেখ শাহজাহান-সহ অন্যরা। বৈঠকে ছিলেন এসজেডিএ-র সিইও পান্ধারিনাথ ওয়াংখেড়ে, পুরসভার চেয়ারপার্সন পাপিয়া পাল, ভাইস চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়, জলপাইগুড়ি বন বিভাগের ডিএফও বিকাশ ভি, গরুমারা বণ্যপ্রাণ বিভাগের ডিএফও দ্বিজ প্রতিম সেন-সহ অনেকে।
২০০৯ সালে সমাজপাড়ায় রবীন্দ্র ভবন সংলগ্ন করলা পারে সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। ২০১০ সালে অর্থ বরাদ্দ করা হয়। ২০১৩ সালে সেতুর কাজ শেষ হলেও জমিজটের কারণে অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি করা যায়নি। ওই সেতু দিয়ে এত বছরেও কার্যকরী হয়নি। সেতুর লাগোয়া করলার পশ্চিম পারে কিছু পরিবার ক্ষতিপূরণের জন্য গণস্বাক্ষর সম্বলিত আবেদনও করে। এত বছর পরেও সেই সেতু কার্যকরী হয়নি৷ এক যুগেও কেন সেতুর সমস্যা মিটলো না সে প্রশ্ন তোলেন পিএসি চেয়ারম্যান। এ দিকে ২০১৮ সালের এক রিপোর্টে সেতুটিকে চলাচলের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। এ দিকে সেতুর দু-প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোড তৈরির জন্য বরাদ্দও করে সরকার। কাজের ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেটের বিষয়েও জানতে চান সুমন কাঞ্জিলাল, শেখ শাহজাহান-রা। সুমন কাঞ্জিলাল বলেন, “যে পরিবার গুলিকে নিয়ে সমস্যা তাদের বাংলার বাড়ি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা যায় কীনা সেটা নিয়েও কথা হল।”
১৯৭৫ সাল থেকে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এই প্রকল্পে প্রকৃত জমিদাতাদের ক্ষতিপূরণ নিয়েও কিছু প্রশ্ন সেচ দপ্তরকে করেন পিএসি-র সদস্যরা। প্রকৃত জমিদাতাদের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত নন এমন কিছু ব্যক্তিও টাকা পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ওপরমহল দেখছে বলে জানায় সেচ দফতর।
উত্তরবঙ্গে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার জেরে বন ও বন্যপ্রাণীর পরিস্থিতি নিয়ে বনাধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন পিএসি-র চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। এ দিন সমাজপাড়ার অসমাপ্ত সেতু পরিদর্শন করেন কমিটির পদাধিকারীরা। গজলডোবায় তিস্তা ব্যারেজেও যাওয়ার কথা রয়েছে তাদের।










