আসানসোল: সাইবার প্রতারণার ঘটনার দুই মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তুলে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারের হস্তক্ষেপের দাবি জানালেন বরাকরের এক সাইবার প্রতারণার শিকার ব্যক্তি। দুর্গাপুর সাইবার সেলকে দ্রুত এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করা এবং প্রতারণায় ব্যবহৃত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ইউপিআই আইডি ফ্রিজ করার ব্যবস্থা করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বরাকরের চৌবে ক্যাম্পাস এলাকার বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সি নিলেশ কুমার ঝা পুলিশ কমিশনারের কাছে পাঠানো আবেদনে জানিয়েছেন, ১১ মে ২০২৬ সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ১৫ মিনিট এবং ৬টা ৪৫ মিনিটে তাঁর বারাকর ইউকো ব্যাংক শাখার অ্যাকাউন্ট থেকে তাঁর অজান্তে ও অনুমতি ছাড়াই দু’টি পৃথক লেনদেনের মাধ্যমে মোট ৯৭ হাজার তুলে নেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রথম লেনদেনে ৫০ হাজার এবং দ্বিতীয় লেনদেনে ৪৭ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার পরপরই তিনি জাতীয় সাইবার অপরাধ হেল্পলাইন ১৯৩০ নম্বরে অভিযোগ জানান। ১২ মে অভিযোগের প্রাপ্তিস্বীকারও পান। একই দিনে দুর্গাপুর সাইবার সেলেও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে জিডিই নম্বর ৬৬ নথিভুক্ত করা হয়। পাশাপাশি ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ট্রানজ্যাকশন আইডি, স্ক্রিনশট-সহ প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিও সাইবার সেলের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অভিযোগ, অভিযোগ দায়েরের পর প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত এফআইআর দায়ের করা হয়নি এবং তদন্তেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এর ফলে প্রতারিত টাকার হদিস পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে এবং অভিযুক্তরা টাকা তুলে নিতে বা ডিজিটাল প্রমাণ নষ্ট করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী।
নিলেশ কুমার ঝার দাবি, সাইবার প্রতারণার কারণে তিনি আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক চাপের মধ্যেও রয়েছেন। তাই পুলিশ কমিশনারের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এফআইআর দায়ের, তদন্ত এবং প্রতারণায় ব্যবহৃত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ইউপিআই আইডি ফ্রিজ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।










